দাজ্জাল বিস্তারিত [পার্ট ২]

দাজ্জাল

মহাকাশ, সেই মহাকাশে অগণ্য ছায়াপথ (Galaxy), নীহারিকা (Ncbula),
অসংখ্য সূৰ্য্য, চাদ, গ্রহ, এক কথায় এই মহাবিশ্ব আজ পর্যন্ত যার শেষ পাওয়া যায়নি,তা শুধু ‘কুন’ আদেশ দিয়ে সৃষ্টি করার পর আল্লাহর ইচ্ছা হােল এমন একটি সৃষ্টি করার
যার মধ্যে স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি থাকবে।

দাজ্জাল নিয়ে আর্টিকেলটির পার্ট ১ এখানে

দাজ্জাল এর পরিচয়

এই বিপুল, বিরাট মহাবিশ্বের প্রতি অণু-পরমাণু
তাঁর বেঁধে দেওয়া নিয়মে চোলছে, ঐ নিয়ম থেকে একটি চুলের কোটি ভাগের এক



ভাগও সরে যাবার ক্ষমতা বা শক্তি কারাে নেই, সে স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি কাউকে আল্লাহ
দেন নি। এ স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি তিনি তার মালায়েকদেরও দেন নি; যে মালায়েক অর্থাৎ
ফেরেশতার ওপর যে কাজের দায়িত্ব দিয়েছেন তা থেকে এক পরমাণু পরিমাণও ভ্রষ্ট
হবার শক্তি তাদের দেন নি । এবার তাঁর ইচ্ছা হােল তাঁর নিজের স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি
তাঁর কোন সৃষ্ট জীবকে দিয়ে দেখা
স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি নিয়ে সে কি করে। তাই
আল্লাহ সৃষ্টি কোরলেন আদমকে (আঃ)। যেহেতু এর দেহের ভেতর তিনি তাঁর নিজের
আত্মা স্থাপন কোরবেন, সেই সম্মানে আদমের দেহ তিনি তৈরি কোরলেন ‘কুন’ আদেশ
দিয়ে নয়, তাঁর নিজের হাতে। তারপর তার দেহের মধ্যে আল্লাহ তাঁর নিজের আত্মা
থেকে ফুকে (প্রবেশ কোরিয়ে দিলেন। আল্লাহ তাঁর নিজের আত্ম, যেটাকে তিনি
বােলছেন- আমার আত্মা, সেটা থেকে আদমের মধ্যে ফুকে দেওয়া অর্থ আল্লাহর
কাদেরিয়াত অর্থাৎ যা ইচ্ছা তা করার স্বাধীন ইচ্ছাশক্তিসহ আল্লাহর সমস্ত সিফত, গুণ,
চরিত্র আদমের মধ্যে চোলে আসা। আল্লাহর রূহ্ আদমের অর্থাৎ মানুষের ভেতরে।
চোলে আসার সঙ্গে সঙ্গে সে অন্যান্য সমস্ত সৃষ্ট জিনিসের চেয়ে বহু ঊর্ধ্বে উঠে গেলাে,
কারণ তার মধ্যে তখন স্বয়ং আল্লাহর সমস্ত সিফত্সহ স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি এসে গেলাে।
যা আর কোন সৃষ্টির মধ্যে নেই। সে হােয়ে গেলাে আশরাফুল মাখলুকাত, সমস্ত সৃষ্টির
মধ্যে সর্বোচ্চ সম্মানিত। স্বাধীন ইচ্ছাশক্তিসহ আল্লাহর রূহ যে তিনি মানবের দেহের
ভেতর স্থাপন কোরলেন এটাই হােল মানুষের কাছে তার আমানত, যে আমানত
মানুষ ছাড়া আর কারাে কাছে নেই।৪
স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি নিয়ে মানুষ কি করে সে পরীক্ষা কোরতে গেলে অবশ্যই একটি
বিরুদ্ধশক্তি প্রয়ােজন, না হােলে পরীক্ষাই অর্থহীন, খালি মাঠে গােল দিলে তাে আর
পরীক্ষা হয় না, তাই আল্লাহ দাঁড় করালেন এবলিসকে। তাকে শক্তি দিলেন মানুষের
দেহ-মনের মধ্যে ঢুকে কু-পরামর্শ দিয়ে তাকে প্রভাবিত ও পথভ্রষ্ট করার। আল্লাহ যখন
আদমকে সৃষ্টি করার সিদ্ধান্ত নিলেন তখন এবলিস মালায়েক অর্থাৎ ফেরেশতাদের মধ্যে
একজন। আদম অর্থাৎ আল্লাহর খলীফা মানুষ সৃষ্টির ব্যাপারে মালায়েকদের মতামত
জানতে চাইলে এবলিসসহ তারা সবাই বােলেছিলাে- কেন আদম সৃষ্টি কোরতে চাও?
১। কোরান- সুরা দাহর, আয়াত ২, ৩।
২। কোরান- সুরা সা’দ, আয়াত ৭৫।
৩। কোরান-সুরা হেজর, আয়াত ২৯; সুরা সাজদা, আয়াত ৯; সুরা সা’দ, আয়াত ৭২।
৪। কোরান- সুরা আহযাব, আয়াত ৭২।
আমরাইতাে তােমার গুণকীর্তণের জন্য যথেষ্ট, তােমার এ সৃষ্টিতাে ফাসাদ (অত্যাচার,
অবিচার, অশান্তি) আর সাফাকুদ্দিমা (যুদ্ধ, মারামারি, রক্তপাত) কোরবে।
এখানে প্রশ্ন আসে- আল্লাহ তখনও আদমকে সৃষ্টিই করেন নি। শুধু বােলেছেন সৃষ্টি
কোরতে চাই, এটুকু শুনেই মালায়েকরা কি কোরে বললাে, সৃষ্টি করার পর এই নতুন
সৃষ্টিটি কি কোরবে? এর জবাব হােচ্ছে- আল্লাহ যদি শুধু এইটুকু বােলতেন যে আমি
আদম নামে একটি জীব সৃষ্টি কোরতে চাই তবে মালায়েকরা কিছুই বােলতাে না। কিম্বা
হয়তাে বলতাে- প্রভু! তুমি লক্ষ কোটি সৃষ্টি কোরেছাে, আরও একটি কোরবে, এতে
আমাদের কী বলার আছে? তােমার ইচ্ছা হােলে করাে। কিন্তু আল্লাহ তা বলেন নি, তিনি
বােলেছিলেন- আমি পৃথিবীতে আমার খলিফা সৃষ্টি কোরতে চাই। এই খলিফা শব্দ
থেকেই মালায়েকরা বুঝে গেল যে এই নতুন সৃষ্টিটি তাদের মত স্বাধীন ইচ্ছাশক্তিবিহীন
একটি সৃষ্টি হবে না কারণ খলীফা অর্থ প্রতিনিধি, এবং প্রতিনিধি অর্থ হােল যার
প্রতিনিধি তার শক্তি তার মধ্যে অবশ্যই থাকা, কমই হােক, বেশীই হােক। তারা বুঝলাে
এই নতুন সৃষ্টি আদমের অর্থাৎ আল্লাহর প্রতিনিধির মধ্যে থাকবে আল্লাহর সিফ,
আল্লাহর গুণসমূহ যার মধ্যে স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি অন্তর্ভুক্ত। স্বাধীন ইচ্ছাশক্তি থাকা অর্থই
হােচ্ছে আল্লাহর দেখানাে পথ, হেদায়াহ মানা বা সেটা না মেনে নিজের ইচ্ছামত
পথে চলার শক্তি। আর আল্লাহর দেখানাে পথে না চোলে নিজের তৈরী পথে চলার
অবশ্যম্ভাবী ফল হবে ফাসাদ (সমাজের মধ্যে অন্যায়, অত্যাচার, অবিচার, অশান্তি) এবং
সাফাকুদ্দিমা (যুদ্ধ, মারামারি, হত্যা, রক্তপাত) তাই মালায়েকরা আদমকে সৃষ্টির আগেই
সে কথা বােলতে পেরেছিলাে।
অতি সংক্ষেপে এর পরের ঘটনাগুলি হচ্ছে এই যে, আদমের (আঃ) অর্থাৎ
মানুষের দেহ নিজ হাতে তৈরী কোরে তার দেহের ভেতরে আল্লাহর নিজের রূহু, আত্মা
থেকে ফুকে দিয়ে আল্লাহ মালায়েকদের আদেশ কোরলেন আদম অর্থাৎ মানুষকে
সাজুদা কোরতে। এবলিস অস্বীকার কোরলাে ও আল্লাহকে বােললাে- আমরা
মালায়েকরা বােলেছিলাম তােমার এই নতুন সৃষ্টি এই আদম, তােমার এই খলীফা
পৃথিবীতে অন্যায়, অবিচার, অত্যাচার আর যুদ্ধ, মারামারি, রক্তপাত কোরবে। আমাদের
এই কথা যে সত্য তা প্রমাণ কোরে দেখাবাে। আল্লাহ এবলিসের অর্থাৎ শয়তানের এ
চ্যালেঞ্জ গ্রহণ কোরলেন, কারণ তাঁর খলীফা সৃষ্টির উদ্দেশ্যই ছিলাে তাই- পরীক্ষা করা
যে তার স্বাধীন ইচ্ছাশক্তিধর খলীফা কোন পথে চলে তা দেখা। এবলিসের চ্যালেঞ্জ
গ্রহণ কোরে তিনি এই নতুন খেলার নিয়ম-কানুন, শৰ্ত্ত ইত্যাদি নির্দিষ্ট কোরে দিলেন।
১। কোরান- সুরা বাকারা, আয়াত ৩০।
২। কোরান- সুরা বাকারা, আয়াত ৩০।
৩। কোরান- সুরা বাকারা, আয়াত ৩৪; সুরা আ’রাফ, আয়াত ১১।
সেগুলাে হােল মােটামুটি এই-
ক) এবলিসকে অনুমতি ও শক্তি দেওয়া গেলাে যে সে আল্লাহর খলীফা সাদমে
দেহে, মন-মগজে, শিরা-উপশিরায় প্রবেশ কোরতে পারবে ও তাকে বুদ্ধি পরামর্শ দিতে
খ) আল্লাহ যুগে যুগে পৃথিবীর প্রতি জনপদে তাঁর নবী-রসুলদের পাঠিয়ে মানুষকে
হেদায়াহ অর্থাৎ পথ প্রদর্শন কোরবেন। সে হেদায়াহ হেল তওহীদ, জীবনের সর্বস্তরে,
সর্ব অঙ্গনে এক আল্লাহ ছাড়া আর কারো আইন-কানুন, আদেশ-নিষেধ অস্বীকার করা
এবং একমাত্র তারই আদেশ-নিষেধ পালন করা।
এরপর বনি আদমের সম্মুখে সমষ্টিগত জীবন পরিচালনার জন্য দু’টি মাত্র পথ
খােলা রােইলাে। হয় আল্লাহর সার্বভৌমত্ব স্বীকার কোরে নবী-রসুলদের মাধ্যমে।
প্রেরিত আল্লাহর দেয়া জীবন-বিধানকে (দীন) সমষ্টিগত জীবনে প্রতিষ্ঠা কোরে সেই
মােতাবেক জীবন পরিচালনা করা অথবা এবলিসের পরামর্শ মেনে নিয়ে স্রষ্টার
সার্বভৌমত্ব অস্বীকার কোরে নিজেদের অর্থাৎ মানুষের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা কোরে
নিজেরাই আইন-কানুন তৈরী কোরে সেই মােতাবেক সমষ্টিগত জীবন পরিচালনা করা।
তৃতীয় কোন পথ রােইলাে না।
এই মহাবিশ্বের স্রষ্টার অসীম জ্ঞানের তুলনায় অতি সামান্য জ্ঞানের অধিকারী বনি
আদমকে পরিস্থিতি ভালাে কোরে বুঝে নেবার জন্য আল্লাহ তাদের জানিয়ে দিলেন যে-
ঐ দুই পথের মধ্যে যে বা যারা তাঁর সার্বভৌমত্বকে (Sovereignty) স্বীকার কোরে
নিয়ে নবী-রসুলদের মাধ্যমে পাঠানাে আইন-কানুন, আদেশ-নিষেধকে তাদের সমষ্টিগত
জীবনে প্রতিষ্ঠা ও প্রয়ােগ কোরবে তাদের তিনি গ্রহণ কোরবেন, ব্যক্তিগত সমস্ত
অপরাধ, গােনাহ মাফ কোরে তাদের জান্নাতে স্থান দেবেন। এই প্রতিশ্রুতি সমস্ত
কোরানে ও সহিহ হাদীসে ছড়িয়ে আছে। এটাকে আরও পরিস্কার কোরে বুঝিয়ে দেবার
জন্য আল্লাহর রসুল তাঁর বিশিষ্ট সাহাবা আবু যরকে (রাঃ) বােললেন- যে লােক মৃত্যু
পর্যন্ত আল্লাহর তওহীদের ওপর অটল থাকবে সে ব্যভিচারী ও চোর হােলেও জান্নাতে
প্রবেশ কোরবে।২
এ ছাড়াও তিনি বহুবার বহুভাবে এ কথা পরিষ্কার কোরে দিয়েছেন যে- আল্লাহর
সার্বভৌমত্বে, সেরাতুল মুস্তাকীমে অর্থাৎ তওহীদে যে অটল থাকবে, বিচ্যুত হবে না,
তার পৃথিবী ভৰ্ত্তি গােনাহও তাকে জান্নাত থেকে ফেরাতে পারবে না। এ ব্যাপারে
বােখারী, মােসলেমসহ অসংখ্য হাদীস পেশ করা যায়। আল্লাহর নবী বােলেছেন-
১। কোরান সুরা ইউনুস, আয়াত ৪৭; সুরা নহল, আয়াত ৩৬; সুরা রাদ, আয়াত ৭!
২। হাদীস- আবু ঘর গেফারী (রাঃ) থেকে বােখারী ও মােসলেম ।

কপিরাইটঃ AnyTechBD

পার্ট ৩ প্রকাশিত হবে Unmask The Truth সাইটে

Comment Here

Your email won't be public

You can use these HTML tags and markups: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <s> <strike> <strong>

*